Description
অন্ডকোষ ভালো রাখার উপায় পুরুষদেহের অন্যতম সংবেদী অঙ্গ অণ্ডকোষ ও অণ্ডথলি। এটি প্রজননতন্ত্রেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শুক্রাণু ও টেস্টোস্টেরন হরমোন এখান থেকে উৎপাদিত হয়। গোপন এই অঙ্গের নানা রোগ ও উপসর্গ নিয়ে আমরা একদিকে যেমন উদাসীন থাকি, তেমনি সমস্যা হলে গোপনও রাখি। অন্যান্য রোগের মতো সাধারণ আলাপচারিতায় এই প্রসঙ্গগুলো আসে না। ফলে রোগ যখন জটিল আকার ধারণ করে, তখন রোগীর ভোগান্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মক হয়ে যায়।
50% ছাড়ে: ছেলেদের মেয়েদের লি- ঙ্গ ২ ইঞ্চি মোটা বড় করার কন -ডম কিনতে ক্লিক করুন – এখনই কিনুন
50% ছাড়ে: ম্যাজিক ক-নড-ম বাংলাদেশি কন-ডম মেয়েদের কন-ডম দেখতে কিনতে ক্লিক করুন – এক্ষুনি কিনুন
অন্ডকোষ ভালো রাখার উপায়
ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে পুরুষের অণ্ডকোষ দুটি বিকাশজনিত কারণে সাধারণত পেটের ভেতরে থাকে। মাতৃগর্ভে থাকাকালীন ষষ্ঠ থেকে নবম মাসের মধ্যে এগুলো আস্তে আস্তে অণ্ডথলিতে নেমে আসে। যদি জন্মের পরও এগুলো অণ্ডথলিতে না নামে, তখন সমস্যাটিকে ‘আনডিসেনডেড টেসটিস’ বা ‘ইনকমপ্লিট ডিসেনডেড টেসটিস’ বলা হয়। শল্য চিকিৎসকরা এমন সমস্যায় আক্রান্ত অণ্ডকোষের নানা রকম রোগী দেখে থাকেন। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৩টি রোগ নিয়ে আজকের সংক্ষিপ্ত এই আলোচনা।
১. টরশন অব টেসটিস: এ রোগে অণ্ডকোষ জোড়া অণ্ডথলির ভেতর এমনভাবে পেঁচিয়ে থাকে যে, অনেক সময় অণ্ডকোষের রক্তপ্রবাহ আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সাধারণত ১০ থেকে ২৫ বছর বয়সী পুরুষদের এ রোগটি হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তাপমাত্রার উত্থান-পতন, আঘাত, যৌনক্রিয়া, পেটের মাংসপেশির অকস্মাৎ সংকোচন, ভারী ওজন দ্রুত তোলা, অনিয়ন্ত্রিত খেলাধুলা ইত্যাদি কারণে এমন সমস্যা হতে পারে।
লক্ষণ বা উপসর্গগুলোর মধ্যে তলপেট, কুঁচকি এবং অণ্ডথলিতে আকস্মিক অসহনীয় ব্যথা এবং অণ্ডথলি লাল হয়ে ফুলে যাওয়া উল্লেখযোগ্য। রোগ নির্ণয়ের জন্য রক্তপ্রবাহের মাত্রা বা অনুপস্থিতির পরীক্ষা করাতে হয়।
অতি দ্রুত সার্জারি এ সমস্যার একমাত্র চিকিৎসা। দেরি বা গাফিলতি করলে সার্জারি করে আক্রান্ত অণ্ডকোষ চিরতরে কেটে ফেলার প্রয়োজন হতে পারে। তবে দ্রুত ও সময়মতো অপারেশন করলে অণ্ডকোষ কাটার প্রয়োজন পড়ে না।
২. অণ্ডকোষের প্রদাহ বা অ্যাকিউট এপিডিডাইমো-অর্কাইটিস: কিশোর ও তরুণদের এই রোগটি বেশি হয়। অণ্ডকোষের এক ধরনের সংক্রমণের কারণে এ সমস্যা হয়ে থাকে। স্বাভাবিক একটি রোগ হলেও এর কারণ সম্পর্কে আমরা অবগত নই। চিকিৎসা না নিলে অণ্ডথলিতে অ্যাবসেস, অণ্ডকোষ ছোট হয়ে যাওয়া, এমনকি প্রজনন ক্ষমতাও বিনষ্ট হতে পারে।
অণ্ডকোষের প্রদাহের প্রধানতম কারণের মধ্যে আছে মূত্রনালির সংক্রমণ ও প্রোস্টেট সংক্রমণ। এ ছাড়া মানসিক আঘাত, যক্ষ্মা, পুরুষ ব্রুসেলোসিস সংক্রমিত হওয়ার ফলেও এ রোগ হয়ে থাকে। ইউরেথ্রাল ইনস্ট্রুমেনটেশনের কারণে এই রোগ হতে পারে। দীর্ঘদিনের মূত্রনালির সংক্রমণ থেকেও এ রোগ হতে পারে। অনেক সময় টিবি বা মাম্পস রোগ থেকেও অর্কাইটিস হয়।
এ রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে অণ্ডকোষসহ তলপেটে ব্যথা হতে পারে। প্রস্রাবের সময়ও তীব্র ব্যথা হতে পারে। কখনো কখনো কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসতে পারে। আবার কখনো অণ্ডথলি ফুলে যেতে পারে এবং বমি বমি ভাব হতে পারে। চিকিৎসার জন্য দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। কারণ সংক্রমণ থেকে জটিলতা আরও বাড়তে পারে। সুনির্দিষ্ট ওষুধ সেবন করলে সাধারণত সেরে যায়। সচরাচর এই রোগে সার্জারি বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না। অনেকের বারবার এ রোগটি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই আল্ট্রাসনোগ্রামসহ আরও কিছু পরীক্ষা করে রোগের কারণ খুঁজে বের করতে হবে।
৩. হাইড্রোসিল: অণ্ডথলির একটি স্তরের মধ্যে অস্বাভাবিক পরিমাণে অভ্যন্তরীণ তরল উপাদান বা সেরাস ফ্লুইড জমা হলে সমস্যাটাকে হাইড্রোসিল বলা হয়। দুই ধরনের হাইড্রোসিল হয়: প্রাইমারি হাইড্রোসিল ও সেকেন্ডারি হাইড্রোসিল। প্রাইমারি হাইড্রোসিল কোনো কারণ ছাড়াই হতে পারে, আবার জন্মগত সমস্যাও হিসেবেও থাকতে পারে। ছোট-বড় সবারই হাইড্রোসিল হতে পারে, যদিও তাদের চিকিৎসা পদ্ধতিতে ভিন্নতা রয়েছে।
প্রাইমারি হাইড্রোসিল চারটি কারণে হতে পারে: (১) পেটের সঙ্গে অণ্ডথলির কানেকশন (যা জন্মের বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা) বন্ধ না হলে বা নতুন করে সৃষ্টি হলে, (২) অতিরিক্ত পরিমাণে ফ্লুইড নিঃসরণ হলে, (৩) ফ্লুইড শোষণের মাত্রা কমে গেলে এবং (৪) অণ্ডথলির লিমফ্যাটিক ড্রেনেজ সিস্টেমে কোনো সমস্যা দেখা দিলে।
এ রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে অণ্ডথলি ধীরে ধীরে তরলপূর্ণ হয়ে ফুলে বিশাল আকার ধারণ করে। মাঝে মাঝে এতই বড় হবে যে সে সময় অণ্ডকোষের উপস্থিতি পর্যন্ত আড়াল হয়ে যায়। পরবর্তী অবস্থায় অণ্ডথলিতে ব্যথা শুরু হয়।
একজন চিকিৎসক শুধু রোগীকে শারীরিক পরীক্ষা করেই বলে দিতে পারেন যে রোগীর হাইড্রোসিল হয়েছে। এই রোগের একমাত্র চিকিৎসা সার্জারি। ছোটদের জন্য হার্নিওটমি অপারেশন করা হয়। আর বড়দের জন্য জ্যাবুলেইস প্রোসিডিওর অথবা লর্ডস প্রোসিডিওর- এই দুটি অপারেশনই সর্বাধিক প্রচলিত।
সুতরাং অণ্ডকোষ ও অণ্ডথলির রোগ নিয়ে উদাসীনতা না দেখিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে অনেক বড় বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।
লেখক: জেনারেল সার্জারি বিশেষজ্ঞ ও ল্যাপারোস্কপিক সার্জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল; কনসালট্যান্ট, প্যানকেয়ার হসপিটাল লিমিটেড।






















Reviews
There are no reviews yet.