Description
বীর্য ধরে রাখার ওষুধ কি চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় সহবাসে সময় বাড়ানো বা বীর্য ধরে রাখার বিষয়টি মূলত দ্রুত বীর্যপাত (Premature Ejaculation) সমস্যার সমাধানের সাথে জড়িত। এই সমস্যার জন্য বেশ কিছু কার্যকরী ওষুধ এবং আচরণগত পদ্ধতি রয়েছে।
বীর্য ধরে রাখার ওষুধ কি
তবে মনে রাখবেন, যেকোনো ওষুধ ব্যবহারের আগে একজন রেজিস্টার্ড ডাক্তার (ইউরোলজিস্ট বা সেক্সোলজিস্ট)-এর পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। নিচে এই সংক্রান্ত প্রচলিত চিকিৎসা ও পদ্ধতিগুলো আলোচনা করা হলো:
১. প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ (Medical Treatments)
ডাক্তাররা সাধারণত শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ দিয়ে থাকেন:
ড্যাপোক্সেটিন (Dapoxetine): এটি দ্রুত বীর্যপাত রোধ করার জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি ওষুধ। মিলনের ১ থেকে ৩ ঘণ্টা আগে এটি খেতে হয়। বাজারে এটি বিভিন্ন ব্র্যান্ড নামে পাওয়া যায়।
অন্যান্য এসএসআরআই (SSRIs): কিছু অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট বা বিষণ্নতার ওষুধ (যেমন- ফ্লুওক্সেটিন, প্যারোক্সেটিন বা সার্ট্রালিন) পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে বীর্যপাতকে বিলম্বিত করে। ডাক্তাররা মাঝে মাঝে এগুলো প্রেসক্রাইব করেন।
ইরেক্টাইল ডিসফাংশনের ওষুধ: যদি বীর্যপাতের পাশাপাশি লিঙ্গ উত্থানের সমস্যা থাকে, তবে সিলডেনাফিল (Sildenafil) বা ট্যাডালাফিল (Tadalafil) জাতীয় ওষুধ দেওয়া হতে পারে।
২. স্থানীয়ভাবে ব্যবহারের স্প্রে বা ক্রিম (Topical Anesthetics)
লিডোকেন বা প্রিলোকেন স্প্রে/ক্রিম: মিলনের ১০-১৫ মিনিট আগে লিঙ্গের মাথায় এই স্প্রে বা ক্রিম ব্যবহার করলে সংবেদনশীলতা কিছুটা কমে যায়। ফলে দীর্ঘ সময় বীর্য ধরে রাখা সম্ভব হয়। ব্যবহারের আগে লিঙ্গ ভালো করে ধুয়ে বা কনডম ব্যবহার করা উচিত যাতে সঙ্গীর সংবেদনশীলতা কমে না যায়।
৩. প্রাকৃতিক ও আচরণগত পদ্ধতি (Natural Methods)
ওষুধের পাশাপাশি এই পদ্ধতিগুলো দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত কার্যকরী এবং এগুলোর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই:
কেগেল ব্যায়াম (Kegel Exercises): প্রস্রাব থামানোর জন্য আমরা যে পেশী ব্যবহার করি, সেটিকে পেলভিক ফ্লোর পেশী বলে। প্রতিদিন ১০-১৫ বার এই পেশী ৫ সেকেন্ডের জন্য সংকোচন ও প্রসারণ করার অভ্যাস করুন। এতে বীর্যপাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ে।
স্টপ-স্টার্ট পদ্ধতি (Stop-Start Technique): মিলনের সময় যখন মনে হবে বীর্যপাত হয়ে যাচ্ছে, তখন লিঙ্গ বের করে নিয়ে উদ্দীপনা বন্ধ রাখুন। উত্তেজনা কিছুটা কমলে আবার শুরু করুন।
স্কুইজ পদ্ধতি (Squeeze Technique): বীর্যপাতের ঠিক আগ মুহূর্তে লিঙ্গের অগ্রভাগ (যেখানে মাথা ও দণ্ড মিলেছে) কয়েক সেকেন্ডের জন্য হালকা চেপে ধরুন। এতে বীর্যের বেগ কমে যাবে।
কনডম ব্যবহার: তুলনামূলকভাবে একটু মোটা কনডম ব্যবহার করলে লিঙ্গের সংবেদনশীলতা কমে, যা দীর্ঘক্ষণ মিলন করতে সাহায্য করে।
বিশেষ সতর্কতা:
বাজার, ফুটপাত বা বিভিন্ন কবিরাজি দোকানে “টাইমিং বাড়ানোর হালুয়া” বা “যৌনশক্তি বর্ধক ভুয়া ওষুধ” পাওয়া যায়। এগুলোতে ক্ষতিকর স্টেরয়েড বা মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক থাকে, যা আপনার কিডনি, লিভার এবং হার্টের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। তাই এই ধরনের সস্তা ও ক্ষতিকর চকচকে বিজ্ঞাপন থেকে দূরে থাকুন এবং প্রয়োজনে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।












