দুধের মতো সাদা স্রাব কিসের লক্ষণ । কারণ, লক্ষণ এবং চিকিত্সা

৳ 550.00

>> সারাদেশে ডেলিভারি খরচ ঢাকার মধ্যে ৫০ ঢাকার বাইরে  ১০০ টাকা ?

>>কিনতে নিচের Buy nuy বাটনে ক্লিক করে অর্ডার করুন ?

Description

দুধের মতো সাদা স্রাব কিসের লক্ষণ । কারণ, লক্ষণ এবং চিকিত্সা

দুধের মতো সাদা স্রাব মেয়েদের জন্য খুবই সাধারণ একটি বিষয়। বেশিরভাগ সময় এটা স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর। কিন্তু কখনো কখনো এটা শরীরের কোনো পরিবর্তন বা সমস্যারও ইঙ্গিত দেয়। চলো, পুরো বিষয়টা ভেঙে দেখি।

### ১. সবার আগে: স্বাভাবিক সাদা স্রাব কেমন হয়?

যোনিপথ নিজেকে পরিষ্কার ও সুস্থ রাখার জন্য সবসময়ই কিছু তরল তৈরি করে। একে বলে লিউকোরিয়া। স্বাভাবিক স্রাবের বৈশিষ্ট্য:

| বৈশিষ্ট্য | স্বাভাবিক হলে কেমন |
| — | — |
| **রঙ** | দুধের মতো সাদা বা একদম হালকা ক্রিম রঙের। শুকালে হালকা হলদে দেখাতে পারে |
| **গন্ধ** | গন্ধহীন বা খুব হালকা, টক দইয়ের মতো গন্ধ। মাছের আঁশটে বা পচা গন্ধ নেই |
| **ঘনত্ব** | পাতলা থেকে ক্রিমের মতো। মাসিক চক্রের সময় অনুযায়ী বদলায় |
| **পরিমাণ** | দিনে ১-৪ মিলি পর্যন্ত। ডিমের সাদা অংশের মতো ১ চা চামচ স্বাভাবিক |
| **অন্য উপসর্গ** | চুলকানি, জ্বালাপোড়া, ব্যথা, লালচে ভাব নেই |

এই স্রাবের কাজ হলো যোনিপথকে পিচ্ছিল রাখা, মরা কোষ বের করে দেওয়া, আর ভালো ব্যাকটেরিয়া দিয়ে ইনফেকশন ঠেকানো।

### ২. দুধের মতো সাদা স্রাব কখন স্বাভাবিক? ৭টি প্রধান কারণ

#### **১. ওভুলেশনের আগে ও পরে**
মাসিক চক্রের ১২-১৬ দিনের দিকে ডিম্বাণু বের হওয়ার সময় ইস্ট্রোজেন বাড়ে। তখন স্রাব প্রথমে ঘন, আঠালো, দুধের মতো সাদা হয়। ওভুলেশনের একদম সময় এটা ডিমের সাদা অংশের মতো পিচ্ছিল ও টানলে লম্বা হয়। ওভুলেশন শেষে আবার ঘন, সাদাটে হয়ে যায়।

#### **২. গর্ভাবস্থার শুরুর লক্ষণ**
বাচ্চা কনসিভ করার ১-২ সপ্তাহ পর থেকে স্রাব অনেক বেড়ে যায়। কারণ ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন হরমোন বেড়ে গিয়ে যোনিপথের দেয়াল মোটা করে। একে বলে লিউকোরিয়া অফ প্রেগন্যান্সি। এটা দুধের মতো সাদা, পাতলা থেকে মাঝারি ঘন, গন্ধহীন হয়। সাথে পিরিয়ড মিস, বমি ভাব, ক্লান্তি থাকলে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করে দেখতে পারো।

#### **৩. যৌন উত্তেজনা**
যৌন উত্তেজনার সময় যোনিপথে রক্ত চলাচল বেড়ে যায় এবং Bartholin গ্রন্থি থেকে পিচ্ছিল তরল বের হয়। এটা সাদা, পাতলা এবং যৌনমিলন সহজ করার জন্য তৈরি হয়। এটা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।

#### **৪. জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল বা হরমোন**
পিল, ইনজেকশন, IUD-তে থাকা হরমোনের কারণে সাদা স্রাব বাড়তে পারে। শরীর নতুন হরমোনে অভ্যস্ত হওয়ার সময় প্রথম ৩ মাস এমন বেশি হয়।

#### **৫. মাসিকের ঠিক আগে**
পিরিয়ড শুরুর ২-৩ দিন আগে প্রজেস্টেরন হরমোন বেড়ে যায়। তখন স্রাব ঘন, আঠালো, দুধ-সাদা হয়। এটা শরীরকে জানান দেয় যে পিরিয়ড আসছে।

#### **৬. স্ট্রেস ও খাবার**
অতিরিক্ত টেনশন, ঘুম কম, বা বেশি চিনি খেলে যোনিপথের pH বদলে স্রাব একটু বাড়তে পারে। কিন্তু এতে গন্ধ বা চুলকানি থাকবে না।

#### **৭. বয়ঃসন্ধি**
১১-১৫ বছর বয়সে প্রথম পিরিয়ড শুরুর ৬-১২ মাস আগে থেকে সাদা স্রাব শুরু হয়। এটা শরীরের স্বাভাবিক বিকাশের অংশ।

### ৩. কখন সাদা স্রাব চিন্তার কারণ? ৪টি অস্বাভাবিক লক্ষণ

সাদা স্রাবের সাথে নিচের যেকোনো একটা মিললেই ডাক্তার দেখানো উচিত:

#### **১. ইস্ট ইনফেকশন / ক্যানডিডিয়াসিস**
এটা সবচেয়ে কমন কারণ।
– **স্রাব কেমন**: ছানা কাটা দুধের মতো বা পনিরের মতো দলা দলা, খুব ঘন।
– **অন্য উপসর্গ**: প্রচণ্ড চুলকানি, যোনিপথ ফুলে লাল হয়ে যাওয়া, প্রস্রাব বা সহবাসের সময় জ্বালাপোড়া।
– **কেন হয়**: অ্যান্টিবায়োটিক খেলে, ডায়াবেটিস থাকলে, টাইট পোশাক পরলে, ভেজা কাপড় বেশিক্ষণ পরে থাকলে যোনিপথের ভালো ব্যাকটেরিয়া কমে গিয়ে ফাঙ্গাস বেড়ে যায়।

#### **২. ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজিনোসিস BV**
যোনিপথের ব্যাকটেরিয়ার ব্যালান্স নষ্ট হলে হয়।
– **স্রাব কেমন**: পাতলা, ধূসর-সাদা বা দুধ-সাদা।
– **অন্য উপসর্গ**: মাছের আঁশটে গন্ধ, বিশেষ করে সহবাসের পর গন্ধ বাড়ে। চুলকানি থাকতে পারে, নাও থাকতে পারে।
– **কেন হয়**: নতুন পার্টনার, ডাচিং করা, সুগন্ধি সাবান ব্যবহার।

#### **৩. যৌনবাহিত রোগ STD**
ক্ল্যামাইডিয়া বা গনোরিয়ার শুরুতে সাদা বা হালকা হলুদ স্রাব হতে পারে।
– **অন্য উপসর্গ**: তলপেটে ব্যথা, প্রস্রাবে জ্বালা, সহবাসের পর রক্ত, পিরিয়ডের মাঝে ব্লিডিং।
– **মনে রাখবে**: অনেক সময় STD-তে কোনো উপসর্গই থাকে না।

#### **৪. ট্রাইকোমোনিয়াসিস**
পরজীবী দিয়ে হয়। সাধারণত স্রাব হলদে-সবুজ ও ফেনাযুক্ত হয়, তবে কখনো ঘন সাদাও হতে পারে। সাথে প্রচণ্ড চুলকানি ও দুর্গন্ধ থাকে।

**লাল পতাকা**: স্রাবের সাথে রক্ত, তলপেটে তীব্র ব্যথা, জ্বর, বা মেনোপজের পর হঠাৎ স্রাব শুরু হলে দেরি না করে ডাক্তার দেখাও।

### ৪. গর্ভাবস্থায় দুধের মতো স্রাব

গর্ভাবস্থায় স্রাব বাড়া স্বাভাবিক। কিন্তু ৩টা জিনিস খেয়াল রাখবে:

1. **স্বাভাবিক**: দুধ-সাদা, পাতলা, গন্ধহীন। একে লিউকোরিয়া বলে। যত মাস বাড়বে তত স্রাব বাড়বে।
2. **মিউকাস প্লাগ**: ডেলিভারির ২-৩ সপ্তাহ আগে ঘন, জেলির মতো, সাদা বা হালকা রক্ত মিশ্রিত স্রাব যেতে পারে। এটা লেবার শুরুর ইঙ্গিত।
3. **বিপদ সংকেত**: পানির মতো পাতলা কলকল করে স্রাব গেলে পানি ভাঙতে পারে। সবুজ, হলুদ, দুর্গন্ধ, চুলকানি হলে ইনফেকশন। রক্ত গেলে সাথে সাথে হাসপাতালে যাও।

### ৫. কী করবে আর কী করবে না

**করণীয়:**
– **পরিষ্কার রাখো**: দিনে ২ বার কুসুম গরম পানি দিয়ে বাইরের অংশ ধোও। সাবান দিলে মাইল্ড, আনসেন্টেড সাবান ব্যবহার করো। সামনে থেকে পেছনে মুছবে।
– **সুতির অন্তর্বাস**: সুতির ঢিলেঢালা পোশাক পরো। রাতে অন্তর্বাস ছাড়া ঘুমানো ভালো।
– **শুকনো রাখো**: ঘাম বা গোসলের পর ভালো করে মুছে নাও। ভেজা সাঁতারের পোশাক দ্রুত বদলাও।
– **খাবার**: দই, টকদই খাও। এতে প্রোবায়োটিক থাকে যা ভালো ব্যাকটেরিয়া বাড়ায়। পানি বেশি খাও, চিনি কমাও।
– **নিরাপদ সহবাস**: কনডম ব্যবহার করো। নতুন পার্টনারের আগে STD টেস্ট।

**বর্জনীয়:**
– **ডাচিং না**: যোনিপথের ভেতর পানি বা লিকুইড স্প্রে করবে না। এটা ভালো ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে।
– **সুগন্ধি প্রোডাক্ট না**: সেন্টেড প্যাড, টিস্যু, ভ্যাজাইনাল স্প্রে, সুগন্ধি সাবান pH নষ্ট করে।
– **টাইট কাপড় না**: টাইট জিন্স, সিনথেটিক লেগিংস ঘাম আটকে ফাঙ্গাস বাড়ায়।
– **নিজে নিজে ওষুধ না**: চুলকানি হলেই ফার্মেসি থেকে অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ক্রিম নেবে না। BV আর ইস্টের ট্রিটমেন্ট আলাদা। ভুল ওষুধে সমস্যা বাড়বে।

### ৬. কখন ডাক্তারের কাছে যাবে?

এই চেকলিস্ট মিলিয়ে দেখো:

1. স্রাবের রঙ সবুজ, হলুদ, ধূসর বা রক্ত মিশ্রিত
2. পনিরের মতো দলা দলা বা ফেনাযুক্ত
3. মাছের আঁশটে, পচা বা খুব কড়া গন্ধ
4. সাথে চুলকানি, জ্বালাপোড়া, ফোলা, লালচে ভাব
5. তলপেটে ব্যথা, জ্বর, প্রস্রাবে জ্বালা
6. সহবাসের সময় ব্যথা বা রক্তপাত
7. পিরিয়ড মিস হয়েছে এবং স্রাব বেড়েছে
8. মেনোপজের পর নতুন করে স্রাব শুরু

ডাক্তার সাধারণত স্রাবের স্যাম্পল নিয়ে মাইক্রোস্কোপে দেখবেন বা pH টেস্ট করবেন। ইস্ট হলে অ্যান্টি-ফাঙ্গাল, BV বা STD হলে অ্যান্টিবায়োটিক দেবেন। ৩-৭ দিনেই ভালো হয়ে যায়।

### শেষ কথা

দুধের মতো সাদা স্রাব মানে তোমার শরীর ঠিকঠাক কাজ করছে—এটাই ৮০% ক্ষেত্রে সত্যি। মাসিক চক্র, প্রেগন্যান্সি, বা হরমোনের কারণে এটা হতেই পারে।

কিন্তু তোমার শরীর তুমি সবচেয়ে ভালো চেনো। যদি স্রাবের রঙ, গন্ধ, ঘনত্ব হঠাৎ বদলে যায়, বা চুলকানি-জ্বালাপোড়া শুরু হয়, তাহলে সেটা “স্বাভাবিক না”। তখন লজ্জা না পেয়ে গাইনি ডাক্তারের সাথে কথা বলো।

ইনফেকশন লুকিয়ে রাখলে সেটা জরায়ু, টিউব পর্যন্ত ছড়িয়ে বড় সমস্যা করতে পারে। তাই সময়মতো ট্রিটমেন্ট নিলে ১ সপ্তাহেই সুস্থ হয়ে যাবে।

আর কোনো নির্দিষ্ট উপসর্গ নিয়ে জানতে চাও? যেমন চুলকানি আছে নাকি শুধু স্রাব? বললে আরও স্পেসিফিক গাইড করতে পারব।