বিড়ালের নখের আঁচড় লাগলে প্রধানত ইনফেকশন বা ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে ভাইরাসজনিত রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়। বিড়ালের নখ এবং লালা বা থুতুতে কিছু বিশেষ জীবাণু থাকে, যা আঁচড়ের মাধ্যমে আমাদের ত্বকের ভেতরে বা রক্তে প্রবেশ করতে পারে।

আঁচড় লাগলে শরীরে সাধারণত কী কী সমস্যা হতে পারে, তা নিচে দেওয়া হলো:

১. ক্যাট স্ক্র্যাচ ডিজিজ (Cat Scratch Disease)

এটি বিড়ালের আঁচড় থেকে হওয়া সবচেয়ে কমন রোগ। এটি Bartonella henselae নামক একটি ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। বিড়াল যখন নিজের শরীর চাটে বা চুলকায়, তখন এই জীবাণু তার নখে লেগে যায়।

২. জলাতঙ্ক বা রেবিস (Rabies) এর আশঙ্কা

বিড়াল সাধারণত নিজের নখ কামড়ায় বা চাটে, ফলে তার লালা নখে লেগে থাকে। বিড়ালটি যদি রাস্তার বা বেওয়ারিশ হয় এবং তার শরীরে রেবিস ভাইরাস থাকে, তবে নখের আঁচড়ের মাধ্যমেও সেই ভাইরাস মানুষের শরীরে ঢুকতে পারে। (তবে ঘরের পোষা বিড়াল, যাকে নিয়মিত জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেওয়া আছে, তার ক্ষেত্রে এই ভয় নেই)।

৩. ধনুষ্টংকার বা টিটেনাস (Tetanus)

বিড়াল যদি বাইরে মাটিতে বা ময়লা আবর্জনায় ঘোরাঘুরি করে, তবে তার নখে ধনুষ্টংকারের জীবাণু থাকতে পারে। নখের গভীর আঁচড়ে ত্বক কেটে রক্ত বের হলে এই জীবাণু শরীরের ভেতর ঢুকে ধনুষ্টংকার ঘটাতে পারে।

৪. সাধারণ চামড়ার ইনফেকশন

বিড়ালের নখে থাকা সাধারণ কিছু ব্যাকটেরিয়ার কারণে আঁচড়ের জায়গাটিতে ইনফেকশন হতে পারে। এতে আক্রান্ত স্থানটি অতিরিক্ত লাল হয়ে ফুলে যায়, গরম হয়ে ওঠে, তীব্র ব্যথা হয় এবং পুঁজ জমতে পারে।

আঁচড় লাগলে দ্রুত যা করতে হবে (প্রাথমিক চিকিৎসা):

জরুরি সংকেত: আঁচড়ের পর যদি জায়গাটি দিন দিন বেশি ফুলতে থাকে, পুঁজ বের হয়, তীব্র জ্বর আসে বা বগলের নিচে চাকা ফেঁপে ওঠে, তবে ঘরে বসে না থেকে অবিলম্বে একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে হবে।