মেয়েদের প্রজননতন্ত্রে, বিশেষ করে ডিম্বাশয়ে (Ovary) সিস্ট হওয়া একটি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে ওভারিয়ান সিস্ট (Ovarian Cyst) বলা হয়। ডিম্বাশয়ের ভেতরে তরল বা অর্ধ-তরল পদার্থে পূর্ণ ছোট ছোট থলিকে সিস্ট বলে।
ডিম্বাশয়ে সিস্ট হলে শরীরে যেসব সমস্যা বা জটিলতা দেখা দিতে পারে, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
আমাদের থেকে ন্যায্যমূল্যে পণ্য কিনতে ভিজিট করুন gazivai.com ওয়েবসাইটে অথবা সরাসরি কিনতে ফোন করুন 01751358525 এই নাম্বারে

১. মাসিক বা পিরিয়ডের জটিলতা
- অনিয়মিত পিরিয়ড: সিস্টের কারণে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যার ফলে মাসিক সময়মতো হয় না। অনেক দিন পর পর হওয়া কিংবা মাসে একাধিকবার পিরিয়ড হওয়ার সমস্যা দেখা দেয়।
- তীব্র ব্যথা ও অতিরিক্ত রক্তস্রাব: মাসিকের সময় তলপেটে প্রচণ্ড মোচড়ানি বা তীব্র ব্যথা হতে পারে এবং স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি রক্তস্রাব হতে পারে।
২. তলপেটে অস্বস্তি ও ব্যথা
- ক্রনিক তলপেট ব্যথা: মাসিকের সময় ছাড়াও অন্য সাধারণ দিনগুলোতেও তলপেটের যেকোনো একপাশে বা পুরো তলপেটে ভারী ভাব, চাবানি বা কামড়ানো ব্যথা হতে পারে।
- কোমর ও উরুতে ব্যথা: সিস্টের আকার বড় হলে তা আশেপাশের স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে কোমর এবং উরুর পেছনের দিকে ব্যথা ছড়িয়ে পড়তে পারে।
৩. প্রজনন ক্ষমতা বা সন্তান ধারণে বাধা (Infertility)
সব সিস্ট সন্তান ধারণে বাধা দেয় না, তবে পিসিওএস (PCOS) বা এন্ডোমেট্রিওমা (Chocolat Cyst) জাতীয় সিস্টের কারণে ডিম্বাশয় থেকে সময়মতো ডিম্বাণু ফুটতে পারে না। এর ফলে গর্ভধারণ করতে সমস্যা হয় বা বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি বাড়ে।

৪. মূত্রাশয় ও পাচনতন্ত্রের ওপর চাপ
সিস্টের আকার বড় হয়ে গেলে তা জরায়ুর আশেপাশের অঙ্গগুলোতে চাপ দেয়, যার ফলে:
- ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হওয়া বা প্রস্রাব ক্লিয়ার না হওয়া।
- পেট ফাঁপা বা পেট সবসময় ভরা ভরা লাগা।
- মলত্যাগের সময় তলপেটে চাপ ও ব্যথা অনুভব করা (কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া)।
৫. হঠাৎ তীব্র জরুরি অবস্থা (Emergency Complications)
কিছু কিছু ক্ষেত্রে সিস্ট বড় হয়ে গেলে দুটি মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে, যার জন্য জরুরি ভিত্তিতে অপারেশনের প্রয়োজন হয়:
- সিস্ট ফেটে যাওয়া (Cyst Rupture): সিস্ট ফেটে গেলে পেটের ভেতর অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হতে পারে এবং হঠাৎ তলপেটে অসহ্য তীব্র ব্যথা শুরু হয়।
- ওভারিয়ান টরশন (Ovarian Torsion): বড় সিস্টের ওজনের কারণে ডিম্বাশয়টি নিজের জায়গায় ঘুরে বা পচ খেয়ে যেতে পারে। এতে ডিম্বাশয়ে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং রোগী ব্যথায় ছটফট করতে থাকে। এর সাথে বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে।
সব সিস্টই কি বিপজ্জনক?
না, সব সিস্ট বিপজ্জনক নয়। মেয়েদের প্রতি মাসে স্বাভাবিক মাসিক চক্রের অংশ হিসেবে ছোট ছোট সিস্ট (Functional Cysts) তৈরি হয়, যা ২-৩ মাসের মধ্যে কোনো চিকিৎসা ছাড়াই নিজে নিজে মিলিয়ে যায়। কিন্তু সিস্ট যদি আকারে বড় হতে থাকে বা পিসিওএস (PCOS)-এর মতো জটিলতা তৈরি করে, তখনই ওপরের সমস্যাগুলো দেখা দেয়।
পরামর্শ: আপনার যদি ঘন ঘন তলপেটে ব্যথা, অনিয়মিত পিরিয়ড বা পেট ফাঁপার সমস্যা থাকে, তবে একটি পেলভিক আল্ট্রাসোনোগ্রাম (USG of Pelvis) করালে জরায়ু বা ডিম্বাশয়ে সিস্ট আছে কিনা তা ১০০% নিশ্চিত হওয়া যায়।
আপনার কি এই ধরনের কোনো লক্ষণ দেখা দিচ্ছে, নাকি আল্ট্রাসোনোগ্রাম রিপোর্টে সিস্ট ধরা পড়েছে?




