বিড়ালের নখের আঁচড়ে কি হয়? বাচ্চা বিড়ালের নখের আঁচড় কি বিপজ্জনক

বিড়ালের নখের আঁচড় লাগলে প্রধানত ইনফেকশন বা ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে ভাইরাসজনিত রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়। বিড়ালের নখ এবং লালা বা থুতুতে কিছু বিশেষ জীবাণু থাকে, যা আঁচড়ের মাধ্যমে আমাদের ত্বকের ভেতরে বা রক্তে প্রবেশ করতে পারে।

আঁচড় লাগলে শরীরে সাধারণত কী কী সমস্যা হতে পারে, তা নিচে দেওয়া হলো:

১. ক্যাট স্ক্র্যাচ ডিজিজ (Cat Scratch Disease)

এটি বিড়ালের আঁচড় থেকে হওয়া সবচেয়ে কমন রোগ। এটি Bartonella henselae নামক একটি ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। বিড়াল যখন নিজের শরীর চাটে বা চুলকায়, তখন এই জীবাণু তার নখে লেগে যায়।

  • কী হয়: আঁচড়ানোর ৩ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ওই জায়গাটি লাল হয়ে ফুলে ওঠে এবং ছোট ফুসকুড়ি বা পুঁজের মতো হতে পারে। এর ১-২ সপ্তাহ পর বগল, গলা বা কুঁচকির লিম্ফ নোড (লসিকা গ্রন্থি) ফুলে যায় এবং ব্যথা হয়। সাথে হালকা জ্বর ও মাথাব্যথা হতে পারে।

২. জলাতঙ্ক বা রেবিস (Rabies) এর আশঙ্কা

বিড়াল সাধারণত নিজের নখ কামড়ায় বা চাটে, ফলে তার লালা নখে লেগে থাকে। বিড়ালটি যদি রাস্তার বা বেওয়ারিশ হয় এবং তার শরীরে রেবিস ভাইরাস থাকে, তবে নখের আঁচড়ের মাধ্যমেও সেই ভাইরাস মানুষের শরীরে ঢুকতে পারে। (তবে ঘরের পোষা বিড়াল, যাকে নিয়মিত জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেওয়া আছে, তার ক্ষেত্রে এই ভয় নেই)।

৩. ধনুষ্টংকার বা টিটেনাস (Tetanus)

বিড়াল যদি বাইরে মাটিতে বা ময়লা আবর্জনায় ঘোরাঘুরি করে, তবে তার নখে ধনুষ্টংকারের জীবাণু থাকতে পারে। নখের গভীর আঁচড়ে ত্বক কেটে রক্ত বের হলে এই জীবাণু শরীরের ভেতর ঢুকে ধনুষ্টংকার ঘটাতে পারে।

৪. সাধারণ চামড়ার ইনফেকশন

বিড়ালের নখে থাকা সাধারণ কিছু ব্যাকটেরিয়ার কারণে আঁচড়ের জায়গাটিতে ইনফেকশন হতে পারে। এতে আক্রান্ত স্থানটি অতিরিক্ত লাল হয়ে ফুলে যায়, গরম হয়ে ওঠে, তীব্র ব্যথা হয় এবং পুঁজ জমতে পারে।

আঁচড় লাগলে দ্রুত যা করতে হবে (প্রাথমিক চিকিৎসা):

  • তাত্ক্ষণিক সাবান-পানি দিয়ে ধোয়া: আঁচড় লাগার সাথে সাথে অবহেলা না করে কলের নিচে ধরে ক্ষারযুক্ত সাবান ও পানি দিয়ে জায়গাটি অন্তত ১০-১৫ মিনিট খুব ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এটি জীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকি অনেক কমিয়ে দেয়।
  • অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহার: ধোয়ার পর পরিষ্কার কাপড়ে মুছে সেখানে অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম বা লোশন (যেমন: ডেটল বা স্যাভলন) লাগিয়ে দিন।
  • ভ্যাকসিন নেওয়া:
    • গত ৫ বছরের মধ্যে টিটেনাস ইনজেকশন দেওয়া না থাকলে একটি টিটেনাস (Tetanus) ইনজেকশন দিয়ে নিন।
    • বিড়ালটি যদি বাইরের হয় বা তাকে জলাতঙ্কের ইনজেকশন দেওয়া না থাকে, তবে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে অ্যান্টি-রেবিস (जलातंक) ভ্যাকসিন নেওয়া শুরু করুন।

জরুরি সংকেত: আঁচড়ের পর যদি জায়গাটি দিন দিন বেশি ফুলতে থাকে, পুঁজ বের হয়, তীব্র জ্বর আসে বা বগলের নিচে চাকা ফেঁপে ওঠে, তবে ঘরে বসে না থেকে অবিলম্বে একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে হবে।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (1) in /home/zkwpgfzs/public_html/wp-includes/functions.php on line 5493

Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (1) in /home/zkwpgfzs/public_html/wp-includes/functions.php on line 5493